চেক প্রতারণা, টাকা আত্মসাৎ ও হত্যা মামলার অভিযোগে আট মাস স্কুলে অনুপস্থিত; দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা প্রজ্ঞাপন

শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম ওমর ফারুক গত আট মাস ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার ছুটির বিষয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি। তার দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।


জানা যায়, ওমর ফারুক ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রধান শিক্ষক হিসেবে টেংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি গাজীপুরের তিন আসনের এমপি-মন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। সেই রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বিদ্যালয় ফান্ড ও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে অভিযুক্ত।


গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে চেক প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এছাড়া, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলাও রুজু হয়। তিনি দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীর পাঠদান ও বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।


বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছালমা বেগম জানান, "ওমর ফারুক বিদ্যালয় ফান্ডের দুই লাখ সতেরো হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে তিনি নিরাপদে রয়েছেন।" অপর শিক্ষক আ. মজিদ বলেন, "শুনেছি তিনি অসুস্থ। তবে স্কুলে তার ছুটির কোনো প্রমাণ নেই।"


বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফারজানা ইয়াসমীন বলেন, "প্রথমে তিনি দুই-তিন দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। পরে কীভাবে স্কুলে অনুপস্থিত তা জানা নেই। তার ছুটির কোনো প্রমাণও নেই।"


ওমর ফারুকের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) ও স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনিরা খাতুন বলেন, "প্রধান শিক্ষক চিকিৎসা ছুটিতে আছেন। কত দিন ছুটি নিয়েছেন তা জানা নেই। বেতন-ভাতার বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানতে পারবেন।"


প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) ফাতেমা নাছরিন বলেন, "ওমর ফারুক চিকিৎসা ছুটিতে আছেন। তবে তার অসুস্থতা সন্দেহজনক। সিভিল সার্জনের কাছে চিঠি লিখে ডাক্তারি মতামত নেওয়া হবে। বেতন-ভাতা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।"


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ ভূঁইয়া জানান, "ওই শিক্ষকের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতি ও নানা অভিযোগ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।