
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক প্রবাসীর কেনা বাড়ি দখলের চেষ্টা, ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী প্রবাসী আব্দুল আলী এবং তার পরিবার এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চান।
ঘটনার সারমর্ম জানিয়ে গতকাল সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল আলীর জামাই মো. কামরুল হাসান লিখিতভাবে অভিযোগ করেন, কাতারে বসবাসকারী আব্দুল আলী ২০১৩ সালে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউন লিমিটেড, ৮ নম্বর রোডে ১২ নং হোল্ডিংয়ের ১১.১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে বাড়ি গড়েন। পরে বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্ব দেন কেয়ারটেকার রেজাউল করিম সুজন ও তার স্ত্রী রাশেদা বেগমকে।
বিবরণে বলা হয়েছে, মূল দলিল, পোর্চা ও খাজনার রসিদ কেয়ারটেকারের নিকট থাকার সুযোগ নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ওই সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ৭৪১০ নম্বর দলিলে খারিজ দেখিয়ে আব্দুল আলীর বোন বিলকিস বেগমকে হেবা (অর্পণ) করা হয় এবং পরে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর প্রবাসীর ৬৪৭৬ ও ৬৪৭৮ নম্বর মূল দলিলের নম্বর ব্যবহার করে জাল দলিল তৈরি করে তার নামিভুক্ত করে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে কেয়ারটেকারকে জমির মূল দলিল চান প্রবাসী; কিন্তু তিনি টালবাহানা করেন। এরপর তিনি আব্দুল আলীর কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টেলিফোনে চাঁদা না দিলে প্রবাসী ও তার পরিজনদের হত্যা করার হুমকিও দেন। এছাড়া আইনগত ব্যবস্থা নিলে তাদের হত্যার পরে লাশ গুম করে দেওয়া হবে এমন ধরণের হুমকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন অভিযোগকারী।
এই পরিস্থিতিতে আব্দুল আলী তাঁর বাড়ি ফেরত দিতে এবং চাঁদাধরীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন মামলার পক্ষ।
অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানতে রেজাউল করিম সুজন ও রাশেদা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা না গেলেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ বা তদন্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে কি না তা নিশ্চিতকরণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যোগাযোগ করার আহ্বান করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।