ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতিবাজ মফিজুল ইসলাম


ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেস্কো)-এর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ খাতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংঘটিত ব্যাপক দুর্নীতির অন্যতম সহযোগী হিসেবেও তার নাম বারবার সামনে এসেছে।
প্রিপেইড মিটার প্রকল্পে দুর্নীতি
প্রিপেইড মিটার স্থাপন প্রক্রিয়ায় মফিজুল ইসলাম ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি লিয়াকত শিকদার নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট ভয়াবহ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর নামও ওঠে এসেছে।
সিন্ডিকেট ও কেলেঙ্কারি
লিয়াকত শিকদারের ঘনিষ্ঠ এই সিন্ডিকেটে আরও ছিলেন জাকির, মঈনুদ্দিন ও শরীফ। অভিযোগ আছে, তারা মিলে ডেস্কোকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিলেন। অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ ব্যয় করা হতো অসামাজিক কর্মকাণ্ডে। দক্ষিণ খানের একটি ফ্ল্যাটে তারা নিয়মিত মদ, জুয়া ও নারী নিয়ে উন্মত্ত আনন্দে লিপ্ত থাকতেন।
একপর্যায়ে বিমানবন্দর থানা ছাত্রলীগের কর্মীরা ওই ফ্ল্যাটে হঠাৎ অভিযান চালিয়ে মফিজুল ইসলামকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে। পরে লিয়াকত শিকদারের মধ্যস্থতায় প্রায় ২০ লাখ টাকা দিয়ে তিনি ওই ঝামেলা থেকে রেহাই পান।
অদৃশ্য শক্তির প্রভাব
কেলেঙ্কারি প্রকাশ পেলেও সিন্ডিকেট প্রধান লিয়াকত শিকদারের ছত্রছায়ায় সবকিছু ধামাচাপা পড়ে যায়। সিন্ডিকেটের বাকি তিন সদস্য বর্তমানে ডেস্কোতে চাকরিতে নেই, তবে মফিজুল ইসলাম এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ উঠেছে, একটি অদৃশ্য শক্তি তাকে রক্ষা করছে।

অভিযোগ নিয়ে মতামত জানতে প্রতিবেদক তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।