সংবাদ সম্মেলনে পিংকী খাতুনের অভিযোগ— প্রতারণা, একাধিক বিয়ে ও রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় জড়িত শামীম ইসলাম; পলাতক আসামি রিয়া জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে কড়া আইনগত পদক্ষেপের আহ্বান


মূল প্রতিবেদন
ঢাকা: বরখাস্ত হওয়া পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শামীম ইসলামের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রতারণার শিকার হয়ে বিচার দাবি করেছেন তার স্ত্রী পিংকী খাতুন। তিনি অভিযোগ করেছেন, শামীম ইসলাম একাধিক বিয়ে ও প্রতারণার পাশাপাশি পলাতক আসামি রিয়া জোয়ার্দারের সঙ্গে যোগসাজশে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন।
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাগুরার শ্রীপুরের বাসিন্দা পিংকী খাতুন এ অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, গত বছরের ৮ আগস্ট পারিবারিকভাবে শামীম ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই তিনি জানতে পারেন, শামীম ইসলাম একাধিক নারীর সঙ্গে বিয়ে করেছেন এবং প্রতারণা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি নেমে আসে।
পিংকী খাতুন বলেন,
"আমি বারবার তাকে অনুরোধ করেছি পরিবর্তন হয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে। কিন্তু কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।"
রিয়া জোয়ার্দারের সঙ্গে সম্পর্ক
পিংকী খাতুন অভিযোগ করেন, শামীম ইসলাম বর্তমানে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ভাড়ার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন পলাতক আসামি রিয়া জোয়ার্দারের সঙ্গে। রিয়া জোয়ার্দার মাগুরার শ্রীপুর থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, গাঁজা বহন ও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
পিংকী জানান,
"রিয়ার কোনো বৈধ উপার্জনের পথ নেই। তারপরও তিনি বিলাসী জীবনযাপন করছেন। তার নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।"
হুমকি ও আতঙ্ক
সংবাদ সম্মেলনে পিংকী খাতুন অভিযোগ করেন, শামীম ইসলাম ও রিয়া জোয়ার্দারের পক্ষ থেকে তিনি নিয়মিত হুমকি পাচ্ছেন। এতে তিনি নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কিত।
তিনি আরও জানান,
"আমি ইতিমধ্যে স্বামীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছি, যা বিচারাধীন রয়েছে। এখন আমি রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ জানাই— দ্রুত তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"

পিংকী খাতুনের সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগ এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের অপেক্ষায়। বরখাস্ত পুলিশ সদস্য ও পলাতক আসামির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে সমাজে ন্যায়বিচারের বার্তা পৌঁছাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।